প্রচুর গুণ রয়েছে খেজুরে- জেনে নিন
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : খেজুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে এটি উপকারী। শুকনো খেজুরও পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। তাকে সোহরা বলা হয়ে থাকে। তবে ভারত ও আমাদের রাজ্যে এটি বেশি উৎপন্ন হয় না। গুণগত মানও ভাল নয়। খেজুর অধিকাংশটাই আসে আরব, ইরাক, ইরান-সহ বিভিন্ন দেশগুলি থেকে। প্রচুর গুণ রয়েছে খেজুরে। তবে ফল হিসেবে এর বিশেষ মর্যাদা আমরা দিই না।
খাদ্য ও ওষুধ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। খেজুর দিয়ে নানারকমের সুস্বাদু খাদ্য তৈরি করা যায়। যেমন- আচার, চাটনি, কেক, পুডিং ও ফলের স্যালাড প্রভৃতি। খেজুর রুচিকর, পুষ্টিকর, তৃপ্তিকর, বলকারক। এছাড়া রক্তপিত্ত-ক্ষত-ক্ষয়নাশক, মূত্রকারক ও ক্লান্তিনাশকও। পাশাপাশি রোগের দুর্বলতানাশক, বায়ু ও কফনাশক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
অন্যদিকে রক্তহীনতা, কোষ্ঠবদ্ধতা, কৃশতা, হৃদদৌর্বল্য, হজমের গোলমাল ও অ্যালার্জি প্রভৃতি ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। উপোসের পর খেজুর খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করলে শরীরের পক্ষে ভাল। দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ও আধুনিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, সুগার, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন- এ, বি, সি, ই, কে ও সামান্য পরিমাণে বোরন, কোবাল্ট, কপার, ফ্লোরিন, সেলেনিয়াম ও সালফার প্রভৃতি খেজুরে থাকে।
এটি হৃদযন্ত্রের পক্ষে খুবই উপকারী। খেজুরে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকার কারণে বিভিন্ন জটিল রোগে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া খেজুর অ্যান্থোসায়ানিন ও ক্যারোটিনয়েডস এবং শুকনো খেজুরে পলিফেলনস জাতীয় যৌগ বেশি থাকে। আবার গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও সুক্রোজের মেলবন্ধনে চিনির চেয়ে বেশি কার্যকরী হয়ে থাকে। কেক তৈরিতে খেজুরের ব্যবহার করা হচ্ছে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি প্রদাহনাশক, গর্ভাধানকারক, সুস্থ প্রসবকারক, অর্শ-আর্থ্রাইটিস-কোলাইটিস নাশকও।
অন্যদিকে বলা হয়েছে, খেজুর হল কোলন ক্যান্সারের প্রতিষেধক। ফুসফুস ও প্রস্টেট প্রভৃতি স্থানের ক্যান্সারকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এছাড়া খেজুর অম্ল, বদহজম, শ্রান্তি ও ক্লান্তি, দুর্বলতা-স্নায়বিক দুর্বলতা-প্রসবান্তিক দুর্বলতা, সাধারণ সর্দি-কাশি-হাঁপানি-ব্রঙ্কাইটিস, কোষ্ঠবদ্ধতা, পাকস্থলী ক্ষত প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রে খেজুর উপকারী। আবার অকাল বার্ধক্য, শয্যামূত্র, লো ব্লাড প্রেশার, মূত্রকৃচ্ছ্র, পিপাসা, রক্তহীনতা, রক্তপিত্ত, কৃমি, গর্ভ ধারণের অক্ষমতা, অনিদ্রা, অ্যালার্জি, শিশুদের অপুষ্টি, হাড় ও দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কম হওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে খেজুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

